কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে কি না জানবেন কি ভাবে ? জানুন তিনটি সহজ পদ্ধতি।

একটা দেশের খাদ্য জোগানের পিছনে মূল ভুমিকা থাকে কৃষক সমাজের। একটা জমি চাষ করতে সার,চাষের যন্ত্রপাতি,বীজ,কীটনাশক ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। একজন কৃষককে চাষবাদ করতে গেলে আর্থিক দিক থেকে সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কৃষকদের এই আর্থিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়েই কৃষকদের আর্থিক ভাবে সাহায্য প্রদানের জন্য কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প চালু করে। ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন গোটা দেশে ‘পিএম কিষান’ যোজনা চালু করেন,তেমনই ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সমস্ত কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক ভাবে সাহায্যের উদ্দেশ্যে ‘কৃষক বন্ধু’ (krishak Bandhu) প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকরা বার্ষিক অনুদান পেয়ে থাকেন এবং যদি কোনো কৃষকের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটে সেই ক্ষেত্রেও সরকার সেই কৃষকের পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পেকে নতুন রূপে নতুন নামে চালু করেন যা ‘কৃষক বন্ধু’ নামেই পরিচিত। বহু কৃষক এই প্রকল্পের ফলে উপকৃত হচ্ছে। প্রকল্পের টাকা গুলি যেহেতু অনলাইনে দেওয়া হয় তাই এখানে দুর্নীতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই প্রকল্পের টাকাগুলি মে/জুন এবং অক্টোবর/এপ্রিল মাসের মধ্যে ঢোকে।

(আরও পড়ুন : রাজ্যে চালু হল স্মার্ট পার্কিং,ঘরে বসেই বুক করুন পার্কিং স্লট)

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা গুলি :

  • এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষকরা প্রত্যেক বছর খারিফ শস্য ও রবি শস্য মরশুমে চাষের সময় আর্থিক সহায়তা স্বরূপ বছরে দুটি কিস্তিতে ১০০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা অব্দি পাবে।
  • যে সমস্ত কৃষকের কাছে ১ একর বা তার বেশি জমি আছে তারা বছরে ১০ হাজার টাকা করে পাবে। আর যাদের কাছে ১ একরের কম জমি আছে তারা বার্ষিক ৪ হাজার টাকা করে পাবে।
  • এই প্রকল্পের সাথে জড়িত ১৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোনো কৃষক মারা গেলে রাজ্য সরকার সেই কৃষকের পরিবার কে এককালীন ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেবে।
  • কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সাথে জড়িত কৃষকরা রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের ‘ধান সংগ্রহ’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এছাড়াও অন্যান্য কৃষক কেন্দ্রিক প্রকল্পের সুবিধা গুলিকে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সাথে যুক্ত করে চাষীদের আরও সুবিধা দিতে চায় রাজ্য সরকার। আগামী দিনে এগুলিকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার ব্লকের কৃষি বিভাগের সহকারী পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করুন।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা চেক করুন এই তিনটি পদ্ধতিতে :

অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে :

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা চেক করার জন্য krishakbandhu.net অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করুন। যদি টাকা ঢুকে থাকে তাহলে আপনি দেখতে পাবেন।

ভোটার কার্ডের মাধ্যমে :

প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিচে ‘নথিভুক্ত কৃষকদের তথ্য’ নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন সেখানে ক্লিক করুন। এবার আপানার ভোটার আইডি কার্ড নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। যদি ‘Transaction Successfully’ লেখা ওঠে তাহলে আপনার টাকা ঢুকে গেছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ম্যাসেজের মাধ্যমে :

আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট চেক করলেই জানতে পাবেন টাকা ঢুকেছে কি না,অথবা যদি টাকা ঢোকে তাহলে মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Comment