২০২৩ সালে বিশ্বে বেকারত্ব বেড়ে হতে পারে ২০ কোটি,ভেঙ্গে পড়তে পারে অর্থনীতি।

নতুন বছরে বিশ্বের বাজারে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড়োসড় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)। সোমবার তারা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যাতে বলা হয়েছে,বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ২০২২ সালের ২% এর তুলনায় ২০২৩ সালে ১% এ নেমে আস্তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বিশ্বের বুকে করোনা ভাইরাস,লক ডাউন,ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক পতন,উচ্চহারে মুদ্রাস্ফীতি এবং কঠোর আর্থিক নীতি কে দায়ী করেছে।

একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে বিগত বছরে তুলনায় বিশ্বের বেকারত্বের হার ৩০ লাখ থেকে বেড়ে ২০ কোটি হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)। বেকারত্ব বিশ্বের সমস্ত দেশে আঘাত আনবে। এদিকে অনেক দেশ এখনও অব্দি করোনা ভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতেই পারেনি। বিগত মাসেই করোনা ভাইরাস আবার বেড়ে যায় চীনের বেজিংয়ের এবং তারা কঠোর লকডাউন ডাকে দেয়। এই নিয়ে সাধারণ জনতা এবং সরকারের মধ্যে বিবাদ ঝামেলাও সৃষ্টি হয়। অনেকেই পথে প্রতিবাদে নেমে আসে। বিশ্বের বুকে আবারও করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতে সৃষ্টি হলে বিশ্বের আর্থিক অবস্থা পুরোপুরি ভাবে ভেঙে পরবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিশ্বের গরীব দেশ গুলির উপরে এর প্রভাব ভয়াবহ ভাবে পরতে পারে।

(আরও পড়ুন : Pradhan Mantri Awas Yojana : এখনও শুরু হল না বাড়ি তৈরির কাজ,টাকা কবে ঢুকবে জানে না নবান্ন )

বর্তমান মন্দার অর্থ হল অনেক কর্মীকে বাধ্য হয়ে নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করতে হবে,যার বেতন থাকবে অনেক কম এবং কাজ অনেক বেশি। এর ফলে কর্মীর সেই আয়ের মাধ্যমে নিজেকে চালাতে সক্ষম হবে না কারণ তার আয়ের তুলনায় জিনিসপত্র দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকট আরও বেশি লোককে দারিদ্র্যতার দিকে ঠেলে দেবে। করোনা ভাইরাসের সময় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল,যা অনেক দেশে নিম্নবিত্ত গোষ্ঠীগুলিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। যার ধকল এখনও অব্দি চলছে বা চলবে। বিশেষ করে যুবকদের,যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে,তারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে বের করতে এবং তা ধরে রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ILO-এর গবেষণা বিভাগের প্রতিনিধি হচ্ছেন রিচার্ডরিচার্ড সাম্যান্স। তিনি বলেছেন – ” বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মন্থর অর্থ হল আমরা আশা করি না যে কোভিড-১৯ সংকটের সময় যে ক্ষতি হয়েছে তা ২০২৫ সালের আগে পুনরুদ্ধার করা হবে”। তিনি আরও বলেছেন, “নামমাত্র শ্রম আয়ের তুলনায় দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়,জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কিত একটি সংকট তৈরি হবে এবং আরও বেশি লোককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে”। যা ধারণার করা হচ্ছে রিপোর্টে পরিস্থিতি তার থেকেও ভয়াবহ হতে পারে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে।

গিলবার্ট এফ হাউংবো ILO এর মহাপরিচালক বলেছেন – “আরও শালীন কাজ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজন স্পষ্ট এবং জরুরী। কিন্তু যদি আমরা এই একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চাই,তাহলে আমাদের অবশ্যই একটি নতুন বৈশ্বিক সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে”।

ILO তাদের একটি আর্টিকেল মধ্যে এই সমস্ত তথ্য,রিপোর্ট তুলে ধরেছে। বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলি দেখুন। এই বিষয়ে তারা একটি PDF ও প্রকাশ করেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Comment