এক সুইচে হাজির পুলিশ,নয়া ভিএলটিডি প্রযুক্তিতে বাড়বে নাগরিক নিরাপত্তা।

দিন দিন দেশ জুড়ে বেড়েই চলেছে নারীদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনা। মাঝে মাঝে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের মত ঘটনা নাড়িয়ে দেয় গোটা দেশকে,কিছুদিন মিডিয়া চলে লেখালেখি,গণ আন্দোলন তারপর সব যাকে তাই। আবার জীবন চলতে শুরু করে নিজস্ব গতিতে,পাবলিক পরিবহণে যাত্রী সুরক্ষা বিশেষ করে নারী সুরক্ষা থেকে যায় তিমিরে।

শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়ে যাত্রী সুরক্ষা। প্রশ্ন ওঠে শহরের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে। যাত্রী সুরক্ষার সমস্যার সমাধানে এবার এগিয়ে একযোগে এলো কলকাতা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ পাদ্ধাই সোমবার উদ্বোধন করলেন ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেমের (Vehicle Tracking System Device) প্রযুক্তির। নয়া এই প্রযুক্তিতে থাকবে একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস ও গাড়ির মাপ ও যাত্রীদের সুবিধা অনুযায়ী প্যানিক (ইমার্জেন্সি) বাটন।

(আরও পড়ুন : প্রকাশিত হল নতুন ভোটার তালিকা;আপনার নাম উঠল কি না দেখে নিন)

যানবাহনের মধ্যে থাকা ডিভাইসটির মাধ্যমে জানা যাবে যানবাহনের অবস্থান,যানবাহনের গতি,কোথায় কতক্ষণ দাঁড়িয়েছে,কোথায় পার্ক করা আছে ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য,যা ট্র্যাক করবে কলকাতা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের কন্ট্রোলরুম। এছাড়াও কন্ট্রোলরুমে পৌঁছে যাবে ওই গাড়ির শেষ তিনমাসের রানটাইমও। এতে করে কোন গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে জানতে পারবে কন্ট্রোলরুম। যানবাহনের মধ্যে থাকা প্যানিক বাটন (Panic Button) টিপেও বিপদ সংকেত পাঠাতে পারবেন যাত্রীরা। কোন মহিলা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লে প্যানিক বাটন টিপে তৎক্ষণাৎ বিপদবার্তা পাঠাতে পারবেন। বিপদ বার্তা পেয়ে পৌঁছে যাবে নিকটবর্তী থানার পুলিশ। এই ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম ডিভাইস বা ভিএলটিডি (VLTD) কে কেউ নষ্ট করতে চাইলেও তৎক্ষণাৎ বার্তা পৌঁছে যাবে গাড়ির মালিক ও কন্ট্রোল রুমের কাছে।

প্রথম পর্যায়ে সকল যাত্রীবাহী গাড়িতে এই ডিভাইস লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে সরকার,পরবর্তীতে পণ্যবাহী ও প্রাইভেট কার গুলিতেও লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেইমত সকল যাত্রীবাহী বাস,ট্যাক্সি,অ্যাপ ক্যাবে সামনের ৩১ মার্চের মধ্যে এই ডিভাইস লাগাতে হবে,না হলে পড়তে হতে পারে জরিমানার মুখে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতায় শহরের ১লাখ ৬০ হাজার যানবাহনে এই ট্র্যাকিং সিস্টেম ইনস্টল করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সরকার। কলকাতার পর ধাপে ধাপে নজর দেওয়া হবে রাজ্যের বাকি জেলা গুলোতেও। আরো জানা যাচ্ছে এই ডিভাইসগুলির দাম রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে,প্যানিক বাটনের দাম থাকবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। তবে গাড়ির মালিকরা যে কোন কোম্পানির ট্র্যাকিং ডিভাইস কিনে গাড়িতে লাগাতে পারবেন না, ডিভাইস কিনতে হবে সরকার অনুমোদিত কোম্পানির কাছ থেকেই।

তবে বাস মালিক সংগঠন,অ্যাপ ক্যাব মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি প্রকাশ করেছে,তারা এখনই এত টাকা খরচ করে এই ডিভাইস লাগাতে রাজি নয়,তারা প্রশ্ন তুলেছে এত ডিভাইস এর যোগান নিয়েও।

শেয়ার করুন

Leave a Comment